গাজীপুরে ৪৩৮ কারখানা খুলেছে, বজায় থাকছে না সামাজিক দূরত্ব

গাজীপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে আজ রোববার প্রায় ৪৫০ পোশাক কারখানা খুলেছে। এসব কারখানার শ্রমিকরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে কাজে যোগ দিয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ নিয়ম কানুন। 

অপরদিকে গত কয়েকদিনের মতো আজও বিভিন্ন দাবিতে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা মহাসড়ক অবরোধ ও একটি কারখানার বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করেছে। এতে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়েই চলছে গাজীপুরে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য গত ১১ এপ্রিল গাজীপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই গাজীপুরে প্রায় সব পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের অনেকেই তাদের গ্রামের বাড়ি চলে যায়। সম্প্রতি সরকার স্বল্প পরিসরে কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে বিভিন্ন উপায়ে কারখানা শ্রমিকরা ফের গাজীপুরে ফিরে আসে। আজ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ৪৩৮টি পোশাক কারখানাসহ প্রায় ৪৫০ কারখানা চালু হয়েছে। এসব

কারখানা খুলে দেওয়া হলেও কিছু কারখানা কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় তারা শ্রমিকদের গায়ে স্প্রে করে দিচ্ছে, থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে জ্বর পরীক্ষা করে কর্মীদের কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সবার হাত ধোয়া এবং মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে অনেক কারখানায় শ্রমিকদের প্রবেশ ও বের হওয়ার এবং যাতায়াতের সময় সামাজিক দূরত্বসহ করোনা প্রতিরোধের নানা নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে না। শ্রমিকরা রিকশায় ও রাস্তায় গাদাগাদি করে চলাফেরা করছে। তবে শিল্প পুলিশ কারখানাগুলো তদারকি করছে, যাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের নিয়মকানুন বাস্তবায়ন করা হয় এবং কোনো কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন, শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুরের তালতলী এলাকার এডিসন ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানা আজ থেকে চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। কাজে যোগ দেওয়ার জন্য কারখানাটির শ্রমিকদের সংবাদ দেওয়া হয়। কারখানায় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কারখানাটি গত কয়েকদিন বন্ধ ছিল। সংবাদ পেয়ে

শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আজ সকাল থেকে কারখানার গেইটে এসে জড়ো হতে থাকে। এ সময় এ কারখানায় যাদের চাকরিকাল তিন মাসের বেশি তাদের কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়। অবশিষ্টরা কাজে যোগ দিতে না পেরে কারখানার গেইটে অবস্থান করতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ গেইটে অপেক্ষা করেও কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পেয়ে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ সময় তাদের (চাকরিকাল তিন মাসের কম) কারখানা থেকে ছাটাই করা হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত

শ্রমিকরা কারখানার গেইট ভাঙার চেষ্টা করে। তারা ইটপাটকেল ছুড়ে এবং কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরা ও দরজা জানালার কাঁচসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে শ্রমিক অসন্তোষের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ১ মে পর্যন্ত কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম ও শ্রমিকরা জানান, গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার স্টাইলিশ গার্মেন্টস কারখানাটি চালু করার নির্ধারিত তারিখ ঘোষণার দাবিতে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে।

পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, গত ৩১ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্টাইলিশ গার্মেন্টস কারখানাটি ১ এপ্রিল থেকে লেঅফ ঘোষণা করে। অথচ কারখানাটিতে ১ এপ্রিলের পরও কিছুদিন পর্যন্ত উৎপাদন অব্যাহত ছিল। লেঅফ শেষে কারখানাটি কবে নাগাদ খোলা হবে তা ঘোষণা দেয়নি মালিকপক্ষ।

শ্রমিকদের দাবি, সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুবিধা নেওয়ার জন্য মালিকপক্ষ হঠাৎ কারখানাটি লেঅফ ঘোষণা করে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

তারা আরো জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানাটি চালু করার নির্ধারিত তারিখ ঘোষণার দাবিতে আজ সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের উভয়দিকে যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ দুপুরের পর পর্যন্ত কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে সমস্যা সমাধানের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিকেলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।  

এদিকে আজ দ্বিতীয় দিনেও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার হেচং বিডি লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের ওই দুই মাসের বকেয়াসহ পাওনাদি পরিশোধ এবং কারখানা চালু করার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেজাউল করিম, শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার হেচং বিডি লিমিটেড পোশাক কারখানাটি গত নবেম্বর মাসে লেঅফ ঘোষণা করে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বন্ধ ঘোষণার সময় গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বেতন ভাতাসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন আগে কারখানাটি গতকাল শনিবার চালু এবং আগামী ৭ মে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধের তারিখ ঘোষণা করে গেইটে নোটিশ টানিয়ে দেয়

কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার গেইটে এসে জড়ো হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের পরও কারখানায় মালিকপক্ষের কাউকে না পেয়ে এবং কারখানার গেইট খুলে না দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা তাদের ওই দুই মাসের বকেয়াসহ পাওনাদি পরিশোধ এবং কারখানা চালু করার দাবিতে গেইটে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর গিয়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিলে তারা বাড়ি ফিরে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় আরএল ইয়ার্ন ডায়িং কারখানার শ্রমিকরা মার্চের বেতনভাতা পরিশোধের দাবিতে আজ সকালে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে কর্তৃপক্ষ আগামী ২ মে কারখানা খোলার পর বেতন পরিশোধের তারিখ ঘোষণার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন স্থগিত করে এলাকা ত্যাগ করে।

একইভাবে টঙ্গী দত্তপাড়া এলাকায় ব্রাইট অ্যাপারেলস লিমিটেড ২৬ মার্চে খোলার তারিখ না দিয়ে কারখানা লেঅফ ঘোষণা করে ফটকে নোটিশ টানিয়ে দেয়। কিন্তু ২৬ মার্চ অনেক কারখানা খুললেও তা খুলেনি। আজ সকালে কারখানাটি খুলে দিতে কিংবা খোলার তারিখ নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল পুলিশের এসপি মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় দুই হাজার ৭২টি শিল্প কারখানার রয়েছে। এর মধ্যে আজ বিজিএমইএভুক্ত ২৩৮টি, বিকেএমইএভুক্ত ৩১টি ও বিটিএমইভুক্ত ২৪টি এবং অন্যান্য সংগঠনভুক্ত ১৪৫টিসহ মোট ৪৩৮টি পোশাক ও বিভিন্ন কারখানা চালু

হয়েছে। অবশিষ্ট এক হাজার ৬৩৪টি কারখানা আজ পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। জেলার কারখানাগুলোর মধ্যে আজ সকাল পর্যন্ত এক হাজার ৭৮৬টি কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বিজিএমইএর ৮৩০টি কারখানার মধ্যে ৭৮৫টি কারখানায়, বিকেএমইএর ১৩৮টি কারখানার মধ্যে ১১০টি, বিটিএমইএর ১২২টির মধ্যে ১১১টিতে এবং অন্যান্য ৯৮২টির মধ্যে ৭৮০টি কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। আজ ১৫ থেকে ২০টি কারখানায় বেতন ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে সমস্যা চলছে। 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, বিজিএমইর নির্দেশনা অনুযায়ী কারখানাগুলো আগামী ২ মে খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারিভাবে রপ্তানিমুখী কারখানার সিদ্ধান্ত নিলে গাজীপুরে কিছু কারখানা আজ খুলেছে। তবে করোনা সংক্রমণরোধে কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কি না সেজন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।

২৩ ঘণ্টা রোজা রাখেন যে দেশের মু’সলমানরা!

ধৈর্য ও সহিঞ্চুতার বারতা নিয়ে রমজান আসে। পানাহার ও যৌ’নাচার বর্জনের এইপরীক্ষায় সবার ক’ষ্ট এক রকম হয় না। কোনো কোনো দেশের মানুষ ১০ ঘন্টারও কমরোজা রাখেন, আবার কোনো কোনো দেশের রোজাদারেরা রোজা রাখেন দীর্ঘ ২৩ ঘন্টা!

যু’ক্তরাজ্য, রাশিয়া, ডেনমা’র্ক, বেলারুশ, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড,কাজাকিস্তান, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরিতে রোজা রাখার সময় প্রায় ১৯ ঘণ্টা।আবার মাত্র ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট রোজা রাখছেন আর্জেন্টিনার মু’সলিম বাসিন্দারা।

এছাড়াও ১০ ঘণ্টা রোজা রাখছেন অস্ট্রেলিয়ার মু’সলিম’রা। ১১ঘণ্টার কাঁ’টায়ও রয়েছেসবচেয়ে কম সময় উপবাস থেকে রোজা রাখছেন আর্জেন্টিনার পার্শ্ববর্তী দেশ ব্রাজিল।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ৯-২১ ঘণ্টার মাঝামাঝিতেও পানাহার বর্জনের পরীক্ষা দেনঅনেকেই। সে দেশগুলো হলো- মধ্যপ্রাচ্যের মিশরে প্রায় ১৬ ঘণ্টা, সৌদি আরব, সংযু’ক্তআরব আমিরাত, ফিলি’স্তিন ও ইয়েমেনে ১৫ ঘণ্টা, কাতার ১৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং

কুয়েত, ই’রাক, জর্দান, আলজেরিয়া, ম’রক্কো, লিবিয়া ও সুদানে ১৪ ঘণ্টা। পাশাপাশিএশিয়ার পা’কিস্তানে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ও ভা’রতীয় মু’সলমানরা ১৪ ঘণ্টা ১৬ মিনিট রোজা রেখে উপবাস থাকেন।এছাড়াও ফ্রান্সে ১৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট, ইতালিতে ১৭ ঘণ্টা, কানাডায় পৌনে ১৫ ঘণ্টা,

ফিলিপাইনসে সোয়া ১৪ ঘণ্টা, মালয়েশিয়ায় ১৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, সিঙ্গাপুর ১৩ ঘণ্টা ৩মিনিট এবং কেনিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় সোয়া ১৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়।এর মধ্যে বেশ দীর্ঘ সময় রোজা রাখছেন পৃথিবীর উত্তরাঞ্চলের মু’সলমানরা। বিশেষত

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর (১. আইসল্যান্ড ২. সুইডেন ৩. নরওয়ে ৪. ডেনমা’র্ক ৫. ফিনল্যান্ড) অধিবাসীরা।

তাদের রোজার দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ঘন্টা। আবার আইসল্যান্ড ও গ্রীনল্যান্ডে বসবাসরত মু’সলমানদের রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য গড়ে ২১ ঘণ্টা।ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এর নর্ডিক অঞ্চলের একটি দেশ ফিনল্যান্ড।

জীবনযাত্রার মান যথেষ্ট উন্নত হওয়ায় নানা দিক থেকে বিশ্বের মানুষের মাঝে আজ বেশআ’লোচিত একটি দেশ এটি। শীতপ্রধান এ দেশটির মোট জনসংখ্যা পঞ্চাশ লাখেরমতো। এর মধ্যে মু’সলমানের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মু’সলমান।

ফিনল্যান্ডের মু’সলমানরা এবারের রোজায় ২২ ঘণ্টারও অধিক সময় রোজা রাখছেন।রাজধানী হেলসিংকি সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানে বসবাসরতরোজাদাররা রোজা রাখেন ২২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। এটিই হলো- ফিনল্যান্ডের রোজার

সবচেয়ে কম সময়। অন্যান্য এলাকায় রোজার সময় আরও বেশি।

ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে উত্তরের শহর ল্যাপল্যান্ড এলাকায় বসবাসরত মু’সলামানরাসবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখেন। সেখানে রাত আসে মাত্র ৫৫ মিনিটের জন্য।তাদের প্রতিদিনকার রোজার দৈর্ঘ্য হয় ২৩ ঘণ্টারও বেশি।

রমজানরাজধানী থেকে উত্তর দিকের শহরগুলোতে রোজার সময় বেড়ে যায়। ফিনল্যান্ডেরউত্তরদিকের বৃহত্তম শহর উলু। সেখানকার রেজাদারগণ ২৩ ঘণ্টা (৭ মিনিট কম) রোজা

রাখেন। দেশের উত্তরের অন্যান্য শহরগুলোতে ১ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ইফতার ও সাহরি সম্পন্ন করতে হয় রোজাদারদের।এতো দীর্ঘ সময় রোজা রাখা অনেকটা অসাধ্য হওয়ায় সেখানকার ইস’লামিক স্কলাররা

ফাতাওয়া দিয়েছেন পার্শবর্তী কোনো মু’সলিম দেশের সময় অনুপাতে রোজা রাখতে।কিন্তু ফিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২৩ ঘন্টা রোজা রাখছেন। আর ইফতার করছেন মাত্র ১ ঘন্টার জন্য।

ফিনল্যান্ডে বসবাস করেন নানা দেশীয় মু’সলমান। ই’রাক, সোমালিয়া, তুরস্ক,থাইল্যান্ডের অনেক মু’সলমান এখানে বসবাস করেন।

তাতারিদের মাধ্যমে দেশটিতে ইস’লাম প্রবেশ করলেও নব্বইয়ের দশকের শুরুতেশরণার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মু’সলমানদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে ফিনল্যান্ডে।

এক সময় ফিনল্যান্ডে সবধরনের ইস’লামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। ১৯২৫ সালে সর্বপ্রথমআনুষ্ঠানিকভাবে ইস’লামী জলসা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপেরদেশগুলোর মাঝে ফিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম কোনো ইস’লামি জলসার অনুমোদন দেয়।

দীর্ঘতম দিনের বিষয়টি মা’থায় রেখে ফিনল্যান্ডের মু’সলমানরা তাদের পার্শ্ববর্তী দেশেরসময় অনুযায়ী রোজা পালন করেন। ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় রোজার দৈর্ঘ্য হলেফিনল্যান্ডের অধিকাংশ মু’সলমান পার্শ্ববর্তী দেশের সময়ের সঙ্গে মিল করে রোজা রাখেন।

ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ডে বসবাসরত মু’সলমানরা তাদের রোজার সময় নির্ধারণ করেনসবচেয়ে কাছের মু’সলিম দেশ তুরস্কের সময় অনুযায়ী। গতবছর এক ফতোয়ায়তাদেরকে ম’ক্কা অথবা নিকটতম মু’সলিম দেশের রোজার সময় অনুসরণ করতে বলা

হয়েছে। এ বছর তাদের অনেকেই সেই ফতোয়াকে অনুসরণ করছেন। -‘আল মিসরি আল ইয়াউম’ ও ‘কল্লা ওয়া দাল্লা’ ওয়েস অবলম্বনে

হঠাৎ তেলাপোকা খুব বেড়ে গেছে? জেনে নিন তেলাপোকা তাড়ানোর কিছু ঘরোয়া উপায়

রে তেলাপোকার উপদ্রব খু্বই বিরক্তিকর। এটি শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং নানারকম অসুখের কারণও। বাজারে তেলাপোকা দূর করার জন্য নানা স্প্রে ও নানা ঔষধ পাওয়া যায়। কিন্তু সবসময় এই স্প্রে বা ঔষধ কাজ করে না। তবে তেলাপোকা তাড়ানোর জন্য ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে।খুব সহজে দূর হবে ঘরের তেলাপোকা। তাহলে আসুন জেনে নেই কীভাবে তাড়াবেন ঘরের তেলাপোকা।

তেজপাতা–তেজপাতা তেলাপোকা দূর করতে সাহায্য করে।কয়েকটা তেজপাতা গুঁড়া করে নিন।যেসকল স্থানে তেলাপোকা আসতে পারে সেখানে তেজপাতার গুঁড়া রেখে দিন।তেলাপোকা তেজপাতার গন্ধ সহ্য করতে পারে না।এটি তেলপোকা মারবে না কিন্তু তেলপোকাকে ঘর থেকে দূরে রাখবে।

বেকিং সোডা ও চিনি–সমপরিমাণে বেকিং সোডা এবং চিনি মিশিয়ে নিন।এবার যেসব ঘরে তেলাপোকা আনা গোনা সেখানে ছিটিয়ে দিন।তেলাপোকা এটি খাওয়ার সাথে সাথে মারা যাবে।

শসা–শসা তেলাপোকা দূর করতে অনেক বেশি কার্যকরী।একটি অ্যালুমিনিয়াম ক্যানে শসার কিছু খোসা নিন।এবার এই ক্যানটি তেলপোকা আসার স্থানে রেখে দিন।দেখবেন তেলাপোকা উপদ্রব বন্ধ হয়ে গেছে।শসার খোসা অ্যালুমিনিয়ামের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে থাকে।যা তেলাপোকার মৃত্যু ত্বরান্বিত করে থাকে।

প্রেট্রোলিয়াম জেলি–একটি জারে প্রেট্রোলিয়াম জেলি নিন।এবার এতে কিছু ফলের খোসা যেমন আম, কলা, আপেল রেখে দিন।ঘরের যে জায়গা দিয়ে তেলাপোকা প্রবেশ করে সেখানে এই জারটি রেখে দিন।ফলের খোসার গন্ধ তেলাপোকাকে আকৃষ্ট করবে আবার প্রেট্রোলিয়াম জেলী তেলাপোকাকে জারের ভিতরে ঢুকতে বাঁধা দিবে।তেলাপোকা যখন জারের চারপাশে এসে জমে যাবে তখন স্প্রে বা সাবান পানি ছিটিয়ে দিন।দেখবেন তেলাপোকা এক নিমিষে দূর হয়ে গেছে।

গোল মরিচের গুঁড়া–একটি মগে এক লিটার পানি নিন এবং এতে একটি রসুনের কোয়া, একটি পেঁয়াজের পেস্ট এবং এক টেবিল চামচ গোল মরিচের গুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে নিন।এবার এটি স্প্রে করে দিন সারা বাড়িতে বা যেসব জায়গায় তেলাপোকা বেশি আসে।দেখবেন তেলাপোকা আপনার বাসা থেকে দূর হয়ে গেছে।

সূত্র: যুগান্তর

Related posts

Leave a Comment