এক মহামারি শেষ না হতেই পৃথিবীবিতে আসছে আরেক মহামারি

এক মহামারি শেষ না হতেই পৃথিবীবিতে আসছে আরেক মহামারি।

বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস থেকে মানুষ বাঁচাতে ব্যস্ত, তখন আরেক শ্রেনীর মানুষ মরতে বসেছে ক্ষুদ্রার জ্বালায়। ফলে দ্রুত যদি ব্যবস্থা নেয়া না যায় তবে ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে।এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডব্লিউএফপি) এক প্রতিবেদনে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিজলে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কভিড-১৯ যে হুমকি তৈরী করেছে তাতে মানুষ বহুমাত্রিক দূর্ভিক্ষে পড়তে পারে। এতে দৈনিক ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। যা হবে ‘ক্ষুধার মহামারি। এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ৮২ কোটি ১০ লাখ মানুষ। যদি আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারি।

এক মহামারি শেষ না হতেই পৃথিবীবিতে আসছে আরেক মহামারি

মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা ও বাধাহীন বাণিজ্য নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে এর পরিণতি হবে একটি মানবিক বিপর্য। যা কয়েক মাসের মধ্যেই ঘটতে পারে।বিজলে বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে কয়েক কোটি মানুষ রয়েছে।রয়েছে লাখ লাখ নারী ও শিশু। তারা ক্ষুধায় দিন কাটাচ্ছে, ফলে একটি দূর্ভিক্ষ অনেক বেশি বাস্তব হয়ে ধরা দিচ্ছে।

ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ৫৫ দেশ যারা নিজেরা মোটামুটি চলতে পারে। সে সব দেশে ১৩ কোটি মানুষ রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়। যা সংকট পর্যায়ের। কিন্তু করোনাভাইরাস সেই সংকট আরো বাড়িয়ে তুলেছে। বন্ধ রয়েছে অবাধ বাণিজ্য এবং মানুষের জীবিকা। ফলে করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে সে সব মানুষ মারা যাবে ক্ষুধায়। অর্থাৎ দূর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে।

এক মহামারি শেষ না হতেই পৃথিবীবিতে আসছে আরেক মহামারি

বিশ্বেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস এ বিশ্বকে বিপর্যয়ের কোন প্রান্তে নিয়ে যায় তা বলা মুশকিল। কারণ এটি এমন একটি অদৃশ্য শত্রু যা খুব সহজে বিদায় নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা দীর্ঘমেয়াদে থাকবে। অর্থাৎ হাজার হাজার মৃত্যু এখন আমাদের প্রতিদিনের পরিচিত সংখ্যা হয়ে উঠছে। অন্যদিকে লকডাউনে খাদ্য সংকট নিন্মবিত্ত ছাড়িয়ে এখন মধ্যবিত্তকে ছুঁয়েছে।

আইএলও’র হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে ২০ কোটির ওপর বেকার বাড়ছে। শ্রমশক্তির ৮১ শতাংশ বা ৩৩০ কোটি মানুষের কাজ পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ।ডব্লিউএফপি জানায়, সবচেয়ে বেশি খাদ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের পাঁচ দেশ। এর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ইয়েমেন। বর্তমানে দেশটিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ। ফলে দেশটির জন্য জরুরিভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।

২৩ ঘণ্টা রোজা রাখেন যে দেশের মু’সলমানরা!

ধৈর্য ও সহিঞ্চুতার বারতা নিয়ে রমজান আসে। পানাহার ও যৌ’নাচার বর্জনের এইপরীক্ষায় সবার ক’ষ্ট এক রকম হয় না। কোনো কোনো দেশের মানুষ ১০ ঘন্টারও কমরোজা রাখেন, আবার কোনো কোনো দেশের রোজাদারেরা রোজা রাখেন দীর্ঘ ২৩ ঘন্টা!

যু’ক্তরাজ্য, রাশিয়া, ডেনমা’র্ক, বেলারুশ, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড,কাজাকিস্তান, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরিতে রোজা রাখার সময় প্রায় ১৯ ঘণ্টা।আবার মাত্র ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট রোজা রাখছেন আর্জেন্টিনার মু’সলিম বাসিন্দারা।

এছাড়াও ১০ ঘণ্টা রোজা রাখছেন অস্ট্রেলিয়ার মু’সলিম’রা। ১১ঘণ্টার কাঁ’টায়ও রয়েছেসবচেয়ে কম সময় উপবাস থেকে রোজা রাখছেন আর্জেন্টিনার পার্শ্ববর্তী দেশ ব্রাজিল।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ৯-২১ ঘণ্টার মাঝামাঝিতেও পানাহার বর্জনের পরীক্ষা দেনঅনেকেই। সে দেশগুলো হলো- মধ্যপ্রাচ্যের মিশরে প্রায় ১৬ ঘণ্টা, সৌদি আরব, সংযু’ক্তআরব আমিরাত, ফিলি’স্তিন ও ইয়েমেনে ১৫ ঘণ্টা, কাতার ১৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং

কুয়েত, ই’রাক, জর্দান, আলজেরিয়া, ম’রক্কো, লিবিয়া ও সুদানে ১৪ ঘণ্টা। পাশাপাশিএশিয়ার পা’কিস্তানে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ও ভা’রতীয় মু’সলমানরা ১৪ ঘণ্টা ১৬ মিনিট রোজা রেখে উপবাস থাকেন।এছাড়াও ফ্রান্সে ১৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট, ইতালিতে ১৭ ঘণ্টা, কানাডায় পৌনে ১৫ ঘণ্টা,

ফিলিপাইনসে সোয়া ১৪ ঘণ্টা, মালয়েশিয়ায় ১৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, সিঙ্গাপুর ১৩ ঘণ্টা ৩মিনিট এবং কেনিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় সোয়া ১৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়।এর মধ্যে বেশ দীর্ঘ সময় রোজা রাখছেন পৃথিবীর উত্তরাঞ্চলের মু’সলমানরা। বিশেষত

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর (১. আইসল্যান্ড ২. সুইডেন ৩. নরওয়ে ৪. ডেনমা’র্ক ৫. ফিনল্যান্ড) অধিবাসীরা।

তাদের রোজার দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ঘন্টা। আবার আইসল্যান্ড ও গ্রীনল্যান্ডে বসবাসরত মু’সলমানদের রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য গড়ে ২১ ঘণ্টা।ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এর নর্ডিক অঞ্চলের একটি দেশ ফিনল্যান্ড।

জীবনযাত্রার মান যথেষ্ট উন্নত হওয়ায় নানা দিক থেকে বিশ্বের মানুষের মাঝে আজ বেশআ’লোচিত একটি দেশ এটি। শীতপ্রধান এ দেশটির মোট জনসংখ্যা পঞ্চাশ লাখেরমতো। এর মধ্যে মু’সলমানের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মু’সলমান।

ফিনল্যান্ডের মু’সলমানরা এবারের রোজায় ২২ ঘণ্টারও অধিক সময় রোজা রাখছেন।রাজধানী হেলসিংকি সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানে বসবাসরতরোজাদাররা রোজা রাখেন ২২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। এটিই হলো- ফিনল্যান্ডের রোজার

সবচেয়ে কম সময়। অন্যান্য এলাকায় রোজার সময় আরও বেশি।

ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে উত্তরের শহর ল্যাপল্যান্ড এলাকায় বসবাসরত মু’সলামানরাসবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখেন। সেখানে রাত আসে মাত্র ৫৫ মিনিটের জন্য।তাদের প্রতিদিনকার রোজার দৈর্ঘ্য হয় ২৩ ঘণ্টারও বেশি।

রমজানরাজধানী থেকে উত্তর দিকের শহরগুলোতে রোজার সময় বেড়ে যায়। ফিনল্যান্ডেরউত্তরদিকের বৃহত্তম শহর উলু। সেখানকার রেজাদারগণ ২৩ ঘণ্টা (৭ মিনিট কম) রোজা

রাখেন। দেশের উত্তরের অন্যান্য শহরগুলোতে ১ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ইফতার ও সাহরি সম্পন্ন করতে হয় রোজাদারদের।এতো দীর্ঘ সময় রোজা রাখা অনেকটা অসাধ্য হওয়ায় সেখানকার ইস’লামিক স্কলাররা

ফাতাওয়া দিয়েছেন পার্শবর্তী কোনো মু’সলিম দেশের সময় অনুপাতে রোজা রাখতে।কিন্তু ফিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২৩ ঘন্টা রোজা রাখছেন। আর ইফতার করছেন মাত্র ১ ঘন্টার জন্য।

ফিনল্যান্ডে বসবাস করেন নানা দেশীয় মু’সলমান। ই’রাক, সোমালিয়া, তুরস্ক,থাইল্যান্ডের অনেক মু’সলমান এখানে বসবাস করেন।

তাতারিদের মাধ্যমে দেশটিতে ইস’লাম প্রবেশ করলেও নব্বইয়ের দশকের শুরুতেশরণার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মু’সলমানদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে ফিনল্যান্ডে।

এক সময় ফিনল্যান্ডে সবধরনের ইস’লামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। ১৯২৫ সালে সর্বপ্রথমআনুষ্ঠানিকভাবে ইস’লামী জলসা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপেরদেশগুলোর মাঝে ফিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম কোনো ইস’লামি জলসার অনুমোদন দেয়।

দীর্ঘতম দিনের বিষয়টি মা’থায় রেখে ফিনল্যান্ডের মু’সলমানরা তাদের পার্শ্ববর্তী দেশেরসময় অনুযায়ী রোজা পালন করেন। ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় রোজার দৈর্ঘ্য হলেফিনল্যান্ডের অধিকাংশ মু’সলমান পার্শ্ববর্তী দেশের সময়ের সঙ্গে মিল করে রোজা রাখেন।

ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ডে বসবাসরত মু’সলমানরা তাদের রোজার সময় নির্ধারণ করেনসবচেয়ে কাছের মু’সলিম দেশ তুরস্কের সময় অনুযায়ী। গতবছর এক ফতোয়ায়তাদেরকে ম’ক্কা অথবা নিকটতম মু’সলিম দেশের রোজার সময় অনুসরণ করতে বলা

হয়েছে। এ বছর তাদের অনেকেই সেই ফতোয়াকে অনুসরণ করছেন। -‘আল মিসরি আল ইয়াউম’ ও ‘কল্লা ওয়া দাল্লা’ ওয়েস অবলম্বনে

Related posts

Leave a Comment